Menu

Jadavpur University Alumni Association Hyderabad Chapter

(JUAAH)

Blog Search

ভুটাই গোয়েন্দার ক্রিস্টিপ্রেম

পিয়ালী চক্রবর্ত্তী

-ওখে, মাউতুসি, উই উইল ক্লিয়ার দ্য পেমেন্ট বাই নেক্সট উইক

-থ্যাংক ইউ

ফোন রেখে ব্যাজার মুখে খানিকক্ষণ বসে থাকলো মৌ। ‘মাউতুসি’, ‘ম্যাওতুসি’ এমনকি ‘ম্যাও’ অব্দি শুনে ফেলেছে। এইজন্য প্রবুদ্ধ সরকার আর নীলা সরকারের ওপর বেজায় রাগ হয় মৌ-এর। নিজেদের এমন গোছানো নাম, আর ছেলে-মেয়ের নাম রেখেছে দেখ! মিথুন আর মৌটুসি। মিথুন তো কালের কবলে ‘মিঠুন’ হয়ে ‘মিঠুনদা, নাচুননা’ হয়ে গেছে। আর মৌটুসি নামক প্রাণী যে একদিন বড় হবে, মধ্যবয়সও পেরোতে থাকবে প্রায়, আর তখনও তার নাম মৌটুসি কেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে যাবে, এইটা কেন প্রবুদ্ধবাবু আর নীলাদেবীর মনে এলনা, সেইটা একটা জটিল রহস্য। সাতচল্লিশ বছরের মহিলার নাম মৌটুসি, খুব হতাশ লাগে ভাবলে। তাও যদি একটা ভদ্রস্থ ডাকনাম থাকতো, অন্তত সেই নামটা ব্যবহার করতো। কী ডাকনাম তার? ভুটাই। অপূর্ব। দাদা পটাই, বোন ভুটাই। প্রবুদ্ধ সরকার আর নীলা সরকার শুধুই সরকারি চাকরিই করেননি, গুছিয়ে দুখানা স্ক্যামও করেছেন, দুই ছেলেমেয়ের নাম নিয়ে।

আমেরিকান ক্লায়েন্ট পেমেন্ট করে দেবে তাড়াতাড়ি ‘মাওতুশি’কে আর পরের সপ্তাহে নতুন প্রোজেক্ট পাঠাবে। মানে মাঝে দিন পাঁচেক কাজকম্ম নাই। কী মজা। এইরকম ফ্রিল্যান্সিং করতেই চেয়েছিল মৌ। মন দিয়ে স্প্যানিশটা শিখেছিল, এখন দিব্যি অনুবাদকের কাজ করে। ইংরাজি থেকে স্প্যানিশ। স্কুলে পড়াতো, সেইসময় মৌয়ের স্কুল, বরের অফিস, মেয়ের কলেজ নিয়ে নিত্য মারামারি সকালে। কে ব্রেকফাস্ট বানাবে, লাঞ্চ প্যাক করবে, কার মাথার ক্লিপ, সাদা শার্ট, বাদামি রুমাল পাওয়া যাচ্ছেনা, উফ জ্বালা কাকে বলে। স্কুলের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করতো মৌ, তারপর বেশ জমে গেল এই কাজে। ইস্কুলে ইস্তফা দিয়ে এখন সে বাড়িতে শুয়ে-বসে, পছন্দমত সময়ে কাজ করে। বাপ আর বেটি অবশ্য তারপরেও কলেজআর অফিস যাওয়া নিয়ে ঝামেলা করতো, ওদের ঝামেলা লগ্নে জন্ম। এরপর মেয়ে চাকরি পেল, আর কিছুদিন পরেই কোভিডে অচল হল পৃথিবী। অতএব বাড়ির মধ্যে একটা ঘরে বর, একটা ঘরে মেয়ে আর ড্রইং রুমে মৌ বসে কাজ করে। এই কদিন হল আস্তে আস্তে কোভিড-মুক্ত হচ্ছে পৃথিবী। দুই ঘর থেকে দুই ঝামেলা এখনও বেরোয়নি, কারণ তাদের অফিস এখনও ডাকেনি। তবে বাড়িতে এখন মৌয়ের দুই ডার্লিং নিয়মিত আসছে। লক্ষ্মী আর শাহিন। এদের দুজনের সাহায্য ছাড়া মৌয়ের এতটুকু চলে না। সকালে আদা দিয়ে কড়া করে চা করে, লক্ষ্মী আর মৌ বসে বসে খায় আর সুখ-দুঃখের গল্প করে। কিছুক্ষণের মধ্যে এসে যায় শাহিন। তার জন্য ঢাকা দেওয়া চা নিয়ে সেও একটু গল্পে বসে। তারপর লক্ষ্মীর রান্না আর শাহিনের ঘর ঝাড়-মোছা, বাসন মাজা শুরু। মৌ একটু সোফায় গা এলিয়ে দেয়। লক্ষ্মী দুইঘরে ব্রেকফাস্ট পৌঁছে দেয়। দুই ঝামেলার খুব কাজের চাপ, তারা বিশেষ বাইরে আসেনা, সারাক্ষণ কানে হেডফোন নিয়ে বকে যায়। দরজা বন্ধ, বাইরে আওয়াজ আসেনা। মৌ ভাবে, ‘আহা এত শান্তি ছিল জীবনে!’

কোভিড শুরু হবার পরে লকডাউনে প্রথম প্রথম মৌয়ের হাতে প্রজেক্টের কাজ একটু কমই ছিল। এদিকে বাইরে বেরোনো বন্ধ, তাদের এই ব্যাঙ্গালোরের টাউনশিপের গেট দিয়ে মাছি অব্দি গলতে পারছে না। তিনজনে মিলে মোটামুটি বাড়ির কাজ সামলে নিতো। কিন্তু চারপাশের পরিস্থিতিতে কেমন ভয় করতো মৌয়ের। সেইসময় মাথা হাল্কা করতে মেয়ে তাকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা-সিরিজবেশি করে দেখতে বলল। মৌয়ের মেয়ে ঐশী, জানে মায়ের ডিটেক্টিভ গল্পখুব পছন্দ। ফেলুদা-ব্যোমকেশ-কিরীটি গুলে খাওয়া মাকে একটু করে হলিউড থ্রিলারের সাথে পরিচয় করালো ঐশী। তারপর পাশাপাশি ধরালো গল্পের বই। ‘বাংলা বই তো অনেক পড়লে মা, আগাথা ক্রিস্টিটা শুরু কর ইংরাজিতে, পুরো জমে যাবে’।

ব্যস সেই যে ‘মার্ডার অফ রজার এক্রয়েড’ দিয়ে শুরু হল, তারপর আর শেষ নেই। দিন নেই, রাত নেই, মৌ পড়েই যাচ্ছে, পড়েই যাচ্ছে। হারকিউল পয়রো, মিস মার্পেল, এতকাল এইসব পড়া হয়নি! ঐশীর ওপর কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেল। খাওয়া নিয়ে ঝামেলা, ঘর অগোছালো কোনকিছুই আর মৌকে বিচলিত করেনা। ‘যা পারিস কর, আমার পয়রো, মিস মার্পল আছে’।

কিন্তু শুধু পড়লেই তো হল না। সাতচল্লিশ বছরের জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ তো করে যেতে হবে। সেই ছোট থেকে মৌয়ের গোয়েন্দা হবার শখ। বাড়িতে, স্কুল-কলেজে কত গোয়েন্দাগিরির চেষ্টা করেছে সে। কিন্তু সবই এত বাজে কেস, মানে রান্নাঘর থেকে পরপর কয়েকদিন মাছচুরির চেষ্টা হল। ওইরোজ দুপুর একটায় পাঁচিল টপকে মেনি বেড়াল এসে নানা অছিলায় রান্নাঘরে ঢোকার চেষ্টা করতো। দরজার আড়াল থেকে রোজ ব্যাপারটা লক্ষ্য করে, মৌ বেড়ালকে জব্দকরার পরিকল্পনা করেছিল। এইটা কি কোন উত্তেজনাময়, শিহরন জাগানো কেস? অপরাধী কে? না মেনি বেড়াল। ধুস। সুস্মিতার বাড়ির ডাকবাক্সে ‘ইতি তোমার ম’ লেখা গ্রিটিংস কার্ড ফেলে গেছিল কেউ, সেইনিয়ে মৌ একটা তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা ভেবেছিল, সুস্মিতা স্কুলে এসে বলার পর। কিন্তু সুস্মিতা লাজুকহেসে বলল, ‘ধুস, আমি জানি, বয়েজ ইস্কুলের মৈনাক’।যে কেস দেবে, সে নিজেই যখন অপরাধী কে তা জানে, তাহলে গোয়েন্দার আর কিছুই করণীয় থাকেনা। তখন ফেলুদা, শার্লক, কিরিটি, গোগোল, ব্যোমকেশ পড়া মৌ এসব তদন্ত করতে কী ভালবাসতো, কিন্তু সেই সুযোগই পেল না।

মৌয়ের দাদা যখন পুলিশে চাকরি পেল। মৌ ভাবল, এইবার তার কপাল খুলবে। দাদার হাতে সিরিয়াল কিলিং, মধ্যরাত্রে অপরিচিত ব্যক্তির খুন এইসব কঠিন কেস আসবে। ওরা দিশা খুঁজে পাবেনা। দাদা চিন্তিত হয়ে বাড়ি এসে মৌয়ের পরামর্শ চাইবে।এইসময় মৌ নামবে আসরে। পটাই পুলিশের বোন ভুটাই গোয়েন্দা। ক্ষুরধার যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সে একের পর এক কেসে পুলিশের পাশে দাঁড়াবে, সমাধান করবে। পুলিশ মহলে তার খুবই সুনাম হবে। আদপে দেখা গেল, কিছুই হল না। খুন-জখম যাই হয়, পুলিশই পটপট ধরে ফেলে। ছিঁচকে চোর ধরেই দাদার জীবনের প্রথম পাঁচ বছর কেটে গেল। ‘হ্যাঁরে দাদা সিরিয়াল কিলার পেলি না একটাও’? শুনে দাদা এমন করে তাকাতো যেন মৌ দাদার দুটো কিডনি ধার চেয়েছে।

তারপরে বিয়ে হয়ে এই ব্যাঙ্গালোরে এসে থেকে, স্কুলে পড়িয়ে, ভাঙা হিন্দি, আধভাঙা ইংরাজি আর দুর্বোধ্য কন্নড় ভাষায় হিমশিম খেতে খেতে সেই গোয়েন্দা হবার বাসনায় কখন যে পুরো পলিমাটি পড়ে গেছিল কে জানে! উস্কে দিল ঐশী, জীবনে এল হারকিউল পয়রো আর মিস মার্পল। আবার গোয়েন্দা হবার ইচ্ছেটা, যাকে বলে একেবারে লতায়-পাতায় বেড়ে উঠতে শুরু করল। এই তো গতসপ্তাহে খুব বৃষ্টি হল, একেবারে ভেসে যাচ্ছিল সব। বাড়িতে বসে থেকে থেকে শরীরে জং ধরে গেল, তাই বিল্ডিংয়ের নিচে হাঁটছিলো মৌ সন্ধের দিকে। একটি বাইক এসে থামলো, রেইনকোটের ওপর হেলমেট পরা আরোহী, প্যাকেট হাতে নামলেন। তারপর সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল দোতলায়। সুইগি-জোম্যাটো হবে হয়তো, তবে আরোহীর চালচলন খুবই সন্দেহজনক।

-হেলমেট খুললো না কেন? মুখ যাতে দেখা না যায়, সেই চেষ্টা?

- লিফট ব্যবহার করলনা কেন? ক্যামেরা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা?

মোবাইলে সময়টা দেখে নিয়েই, মৌ লিফটে করে দোতলায় উঠে গেল। শুনশান করিডোর, এক্ষুনি হয়তোএকটা আর্তনাদ শোনাযেতে পারে, তারপর রেইনকোট পরাএকটি লোক একছুটে মৌকে ধাক্কা দিয়ে নিচে নেমে যাবে, মৌ ছুটবে তার পিছনে, চীৎকার করে লোক জড়ো করবে। লোকটা কিভাবে যেন পালাবে। পুলিশ আসবে, মৌ তাকে সব তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে, বাড়ির লোককে বারবার জেরা করে, তাদের মুখ থেকে নানান কথা বার করবে। তারপর এক দুঃসাহসিক অভিযানে পুলিশের সাথে গিয়ে লোকটি কে ধরা হবে। ব্যাঙ্গালোর পুলিশ জানবে গোয়েন্দা মৌয়ের কথা। ভাবতে ভাবতেই সেই রেইনকোট-হেলমেটধারী লোকটি মৌকে পাশ কাটিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল। একটি ফ্ল্যাটে দরজা বন্ধ করার শব্দ শোনা গেল, কিন্তু না, কোন আর্তনাদ নেই।কেস ডিসমিস। তবুও লোকটির চলে যাওয়ার সময়টা দেখে রাখলো মৌ।

কী কুক্ষণে ঐশীকে ঘটনাটা বলেছিল মৌ। মেয়ে একেবারে ফোঁস করে উঠল। ‘এইসব করছ তুমি? দাঁড়াও আমি কালই সবকটা বই কাগজওয়ালার কাছে বেচে দেব’। মৌও কম যায়না, ‘হুমকি দিচ্ছিস? কেনআমার কি পয়সা নেই? সব আবার অর্ডার করব’। ঐশীর বাবা প্রদীপ্ত পাশে বসেছিল। বলল ‘আহ, ঐশী, করুক না যা করছে, মানুষের প্যাশনকে ছোট করতে নেই’। এইজন্য লোকটাকে মাঝেমাঝে মৌয়ের ভাল লাগে। ওমা তারপর বাপ আর মেয়ের কী গা-জ্বালানো হাসি। পিত্তি জ্বলে গেল মৌয়ের। দুটোকে দূর করে দিতে হয় বাড়ি থেকে।

এরপরে মৌয়ের গোপন গোয়েন্দাগিরি শুরুহল। মানে শুরু হবার মুখেই আছে। একটা ভাল কেস পেলেই হয়।

মৌদের ফ্ল্যাটের দরজা খুললেই উল্টো দিকে যে ফ্ল্যাটটা আছে, তারা বাঙালি। ব্যানার্জি দাআর মিষ্টি বৌদি। ওদের দরজার বাইরে বেশ একটা ক্যাটকেটে কমলারঙের ডাস্টবিন থাকে। যেতে-আসতে চোখে পড়ে। দিন দুই হল, ডাস্টবিনটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। পালটে ফেলল নাকি? আজ সকালে ব্যাপারটা বোঝার পর থেকে আই-হোল দিয়ে মাঝে মাঝেই মৌ চোখ রাখছে ওদের দরজায়। না, সারাদিনে কেউ আর বাইরে কমলা বা অন্য কোন ডাস্টবিন রাখছেনা। ‘কমলা ডাস্টবিন রহস্য’। মানে রহস্য যদি কিছু ঘটে থাকে, তাহলে ওই ক্লায়েন্টের আরএকটা অনুবাদের প্রজেক্ট আসার মাঝের সময়টা একটু গোয়েন্দাগিরি করা যাবে। তবে মৌয়ের যা কপাল! যাইহোক আই-হোলে চোখ রেখে বিকেলে দেখল মিষ্টি বৌদি দরজা খুলে বাইরে এসে, করিডোরে একটু হাঁটছে। এইসুযোগ, মৌ যেন কোথাও বেরোচ্ছে, এইভাবে একটু বেরোলো I

-মিষ্টি বৌদি, কী খবর?

-এই তো চলছে (মিষ্টি বৌদি ম্লান হাসলো, মৌয়ের একটু কেমন খটকা লাগলো)

-আচ্ছা ময়লা ফেলার ছেলেটা আজ এসেছিল কিনা জানো? আমাদের ডাস্টবিনটা খালি করেনি

-নাতো, আসলে আমাদের কাল বাইরে খাওয়া হয়েছে, তাই কিছু ছিল না

-আরে তোমার কমলা ডাস্টবিনটাও তো দেখছি না, ভেঙে গেল নাকি?

মিষ্টিবৌদি একটু অপ্রস্তুত।

-না, হ্যাঁ মানে ওটা ভেঙে গেছে

-ময়লা নিতে এসে ভাঙলো?

-না মানে, হ্যাঁ ওই ভেঙেছে কবে একটা

মিষ্টি বৌদির মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে মোটেই উৎসাহী নয়। মৌ প্রসঙ্গ পাল্টালোI

-আজকাল সোসাইটিতে যে সব্জীর ট্রাক আসে, কি গলাকাটা দাম নেয় দেখেছ?

হ্যাঁ বাইরেই বা কী আর ভাল বল, ওই তো তোমাদের ব্যানার্জিদা দুদিন আগে বাজার আনলো, লাউ পচা, এক কেজির মধ্যে প্রায় আড়াইশো আলু পচা

-এ বাবা তাই নাকি? কোথা থেকে আনলো ?

-ঠিক জানিনা, কাছাকাছি কোথাও থেকে

এবার মিষ্টি বৌদি মনে হল, এই প্রসঙ্গেও আর বেশি কথা বলতে চাইছে না। সব্জী আর সব্জীর খোসা ফেলার জায়গা, এই দুটো নিয়ে মনে হচ্ছে একটা ঝামেলা হয়েছে কিছু। মৌ একটা রহস্যের গন্ধ পেল। মনে পড়ল, মৌয়ের বাড়িতেও সব্জী নেই একদম। প্রদীপ্ত আরঐশী দুই ঘরে, মাথা খুঁড়লেও বেরোবে না। এদিকে সন্ধেবেলা এসে লক্ষ্মী রান্নাটা করবে কী দিয়ে? অতএব কমলা ডাস্টবিন ছেড়ে আপাতত তাকেও একটু বাজারের দিকে যেতে হবে। তবে মাথায় একটা প্ল্যান এসেছে, কমলা ডাস্টবিনের ব্যাপারে আর একটু গভীরে জানার উপায়। আপাতত অটো করে সামনের বাজারে গিয়ে শাকসব্জী বাজার করে, ফেরার সময় একটা অটো নিজে থেকেই এগিয়ে এল। টাউনশিপের নাম বলতেই রাজি হল। চালক পুরো রাস্তাটাই আয়নার মধ্যে দিয়ে বারবার দেখছিল মৌকে। একটু কেমন সন্দেহ হল, ‘সিরিয়াল কিলার নয় তো’? দৃষ্টিটা একটু কেমন যেন। পুরো রাস্তাটাই কেমন যেন আড়চোখে মৌকে দেখতে দেখতে এল। মৌ আর সাহস করে টাউনশিপের ভেতরে না ঢুকে গেটের সামনেই অটো ছেড়ে দিল। অটোর নাম্বারটা ভালকরে দেখে নিল। এদিকে আবার কমলা ডাস্টবিনের কেসটারও একটা ফয়সালা দরকার। সিকিউরিটি রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রামাস্বামী। সে আবার অটোচালককে দেখে হাত নাড়লো। বোঝো, রামাস্বামীর দিকে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাকরল মৌ, ‘তুম ইসকো পহেচানতা?’ সে একগাল হেসে বলল, ‘আপ ভুল গ্যায়ে? আরে শুরু শুরু মে আপলোগ যব আয়েথে, ইয়ে আকে ফার্নিচার সবফিট করকে গ্যায়া থা, নাম ধরমভীর, অভি অটো চালাতা হ্যায়’। হ্যাঁ তাই তো, রামাস্বামীই নিয়েএসেছিল, আচ্ছা, তাই লোকটা মৌকে এত দেখছিল। যাক সিরিয়াল কিলার নয় মনে হয়। যাকগে, কমলা ডাস্টবিনের কেসে রামাস্বামীর একটুসাহায্যের দরকার।টাউনশিপের সব ব্লকের সিসিটিভি গুলোর ওপর নজর রাখে রামাস্বামী। সেএখানকার সিকিউরিটি ইনচার্জ। মৌ এবার আস্তে আস্তে রামাস্বামীকে বলল,

-শুনো, মুঝে এক হেল্প চাহিয়ে, পরশু রাতকো হামারে ফ্ল্যাটকা করিডোরকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখনা হ্যায়

-কিঁউ?

-এক চিজ খো গ্যায়া, ও চেক করনা হ্যায়

-ক্যায়া খো গ্যায়া?

-আরে হামারে সামনেওয়ালা ফ্ল্যাটকা কমলা রঙকা ডাস্টবিন

-ক্যায়া? ডাস্টবিন

-ইয়েস, আর্জেন্ট

-অ্যায়সে ক্যায়সে হোগা ম্যাডাম, সেক্রেটারিকা পারমশন চাহিয়ে, রেড্ডি স্যার কা

-আরে ছোটা মামলা হ্যায়, দিখাদো না

-নেহি, অ্যায়সে নেহি হোতা

দেখেছ, এই নিয়ম কানুন নিয়ে রামাস্বামীর বেশি বাড়াবাড়ি। কিন্তু গোয়েন্দার কাজই হচ্ছে যেমন করে হোক সত্যের সন্ধান করা। তাতে একটু ব্ল্যাকমেইল করতে হলে, কোন অসুবিধা নেই।বেশ একগাল হাসি হেসেমৌ বলল, ‘তো সুনীল ক্যায়সা হ্যায় রামাস্বামী’? এইবার রামাস্বামীর মুখটা কেমন নরম হয়ে গেল। কিছুই না, সুনীল, রামাস্বামীর শালা, গ্রাম থেকে সটান ব্যাঙ্গালোরে জামাইবাবুর কাছে চলে এসেছিল গতবছর কোভিডের সময়।কাজকর্ম নেই, সংসার চলছে না। মৌয়ের সাথে রামাস্বামীর ভালই খাতির ছিল। অতএব সুনীলকে নিয়ে রামাস্বামী এল মৌয়ের কাছে, মৌ গেল প্রদীপ্তর কাছে, প্রদীপ্ত নিজের অফিসের সিকিউরিটি টিমে ছেলেটির একটি চাকরির বন্দোবস্ত করে দেয়। সুতরাং রামাস্বামী মৌকেএকটু তোয়াজ করেই চলে। সুনীলের কথা জিজ্ঞাসা করামাত্রই রামাস্বামী কিছু একটা বুঝল, আর ‘সুনীল তো আচ্ছা হ্যায়, কাম কাজ কর রাহা হ্যায়, আইয়ে ম্যাডাম, ফুটেজ দিখাতা হু আপকো’।

পরশু রাতে, মৌ ঠিক ধরেছিল, রাত এগারোটা অব্দি কমলা ডাস্টবিন সশরীরে বিরাজমান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ সব চুপচাপ, ফাস্ট-ফরোয়ার্ডে চলছে, হঠাত রাত সাড়ে-বারোটায় মিষ্টিবৌদির দরজা খুলে গেল। ‘দেখি দেখি’ করে ঝুঁকে পড়ল মৌ। মিষ্টিবৌদি ধপ করে একটা প্যাকেট ডাস্টবিনে ফেললো। পিছনে বেরিয়ে এল ব্যানার্জিদা, দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত তর্কাতর্কি হল, তারপর ব্যানার্জিদা একেবারে কমলা ডাস্টবিন তুলে সটান গ্রাউন্ডফ্লোরের উঠোনে ফেলে দিল। এই যাহ। এই কেস তবে, সেই পচা আলু আর পচা লাউয়ের ঝগড়া, মাঝখান থেকে দেহ রাখলো কমলা ডাস্টবিন। রামাস্বামীমুখটা ব্যাজার করেবলল, ‘ক্যায়া ম্যাডাম, ফ্যামিলি ঝামেলা মে ঘুষতে হো’। মৌও একটু ইয়ে-ইয়ে করে অনেক ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে এল। সে নাহয় হলই বা কর্তা-গিন্নির ঝগড়া। কিন্তু একটা রহস্য সমাধান তো হল।

তবে মন ভেঙে গেছিল মৌয়ের। একটাও ভাল কেস নেই কোথাও। গোয়েন্দাগিরির মত একটা মহৎ প্রচেষ্টা এমন মাঠে মারা যাবে! যাই হোক।

কিন্তু দুটো দিন, মাত্র দুটো দিনের মধ্যে মহা শোরগোল পড়ল টাউনশিপে। পাশের টাওয়ারের পাঁচতলার বাসিন্দা মিস্টার মূর্তি সপরিবারে ব্যাঙ্গালোর ছেড়ে যাচ্ছেন চেন্নাই। সন্ধে হয়ে এসেছে, মুভার্স অ্যান্ড প্যাকার্স এসে শেষ মুহূর্তের মাল তুলছে গাড়িতে। এরই মধ্যে মিসেস মূর্তি, নিজেদের গাড়িতে যাবার জন্য যেসব মালপত্র, আলাদা করে রেখেছেন। বেশ কিছু দামী গয়নায় ঠাসা একটি ব্যাগও ছিল তাতে। সেইসব মালপত্র একটি কোণে রেখে, পাশের ফ্ল্যাটের লোকজনকে বিদায় জানাতে গেছিলেন ভদ্রমহিলা। ফিরে এসে দেখেন, গয়নার ব্যাগটি নেই। মাত্র পনেরো মিনিটের জন্য বেরিয়েছিলেন। হইহই কাণ্ড, ঘরদোর, পোঁটলা তোলপাড় করে দেখা গেল কোথাও নেই। জানা গেল, মিসেস মূর্তি বেরোনোর পাঁচ-সাত মিনিটের মধ্যে ওই প্যাকার্স আর মুভার্স কোম্পানির এক কর্মী, যে কিনা ফ্ল্যাটে কাজ করছিল, সেও বেরিয়েছিল, সে গেছে মূল গেটের সিকিউরিটি ডেস্কের দিকে, সেখানে যে শৌচালয় আছে, তা ব্যবহার করতে।

ব্যস, দুয়ে দুয়ে চার করল সবাই। মানে এক ফাঁকে সেব্যাগ নিয়ে গেছে, এইবার কাজ সেরে গেটের বাইরে বেরোলেই, শেষ।সঙ্গে সঙ্গে মেইন গেটে খবর গেল, কোন বাইরের লোক বা গাড়ি, অটো যেন পুরোপুরি চেক না করে ছাড়া না হয়। মুভার্স অ্যান্ড প্যাকার্স কোম্পানির কাউকে যেন বাইরে বেরোতে না দেওয়া হয়। টাউনশিপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে খবর পাওয়া মাত্রই মৌ ছুটলো মেইন গেটের কাছে। সেখানে মিস্টার মূর্তি সেক্রেটারি মিস্টার রেড্ডির ওপর তর্জন-গর্জন করছেন। ‘যদি এতক্ষণে গয়নার ব্যাগ গেটের বাইরে বেরিয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু খুব ঝামেলা হয়ে যাবে’। মিস্টার রেড্ডি ঠান্ডা মাথার মানুষ। পরিস্কার বললেন ‘এক তো মুভার্স অ্যান্ড প্যাকার্স আপনি ডেকেছেন, আপনার স্ত্রী গয়নার ব্যাগ ঘরে রেখে বাইরে বেরিয়েছেন, এসব কিছুর জন্য টাউনশিপ দায়ী নয়। তবে হ্যাঁ খুঁজে যাতে পাওয়া যায়, সে চেষ্টা করব’। ইতিমধ্যে যে কর্মী টি সিকিউরিটি গেটের শৌচালয়ে এসেছিল, তাকেই ধরা হয়েছে। তার নাম রবি। সে কাঁচুমাচু মুখ করে জানালো, সে কিছুই চুরি করেনি, সে শুধু বাথরুম ব্যবহার করতে এসেছিল। তাকে ভাল করে তল্লাশি করা হল, বাথরুম তল্লাশি করা হল। মিস্টার মূর্তি বললেন, ‘আমার মনে হয় সিকিউরিটির সঙ্গে কোন যোগসাজশ আছে, ব্যাগ এদের কাছে পাচার করে দিয়েছে’। গর্জে উঠল রামাস্বামী, ‘দেখুন স্যার, অনেকদিন এখানে বিশ্বাসের সাথে কাজ করছি, এসব বলবেন না’। ব্যাপার বেশ জটিল, ওদিকে কোথাও ব্যাগ পাওয়া গেল না। মিস্টার মূর্তি পুলিশে খবর দিলেন। স্থানীয় থানার ইনচার্জ এলেন, রবিকে জেরা করা হল, বাকি কর্মীদের, সিকিউরিটির ঘর, তন্নতন্ন করে খুঁজেও কিছু পাওয়া গেল না। মুভার্স-প্যাকার্সের ম্যানেজার অব্দি এলেন, বললেন, মালপত্রের গাড়ি এখানেই থাকবে, প্রমাণ হোক আগে। কর্মীদের একরাতের জন্য আটক করা হল।

মৌ খুব গভীরভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে শুরু করল। সবাই ভাবছে ওই মুভার্স অ্যান্ড প্যাকার্সের ছেলেটি ব্যাগ নিয়ে সোজা সিকিউরিটি গেটের বাইরে চালান করে দিয়েছে। কিন্তু ছেলেটি হাতে করে ব্যাগ নিয়ে বেরোলো, কারুর নজরে পড়বে না? সিকিউরিটি টিমএত বিশ্বস্ত, তাদের সামনে ঘটনাটা ঘটবে কী করে? সবার সাথে নিশ্চই যোগসাজশ নেই। জানতে হবে ঘরে তখন এই কর্মীরা ছাড়া আর কেউ ছিল কিনা। অবশ্য পুলিশ নিশ্চই এই জায়গাগুলো খতিয়ে দেখবে। কিন্তু সেই বা বসে থাকবে কেন? সে এই সম্ভাবনার কথা রেড্ডি স্যারকে সব মেসেজ করে জানিয়ে দিল। রেড্ডি স্যার তাকে খুবই স্নেহ করেন। বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ, ঠান্ডা মাথায় টাউনশিপের অনেক দায়িত্ব সামলান। সব পড়ে তিনি বললেন, ‘পুলিশ অফিসার কাল আবার আসুক, তোমাকেও ডাকবো, দেখি কী করা যায়। আসলে সিকিউরিটি টিমের ওপর সন্দেহ পড়েছে, তারা খুবই কষ্ট পেয়েছে। এত করে এরা, আমিও চাইনা, ওদেরকে কেউ এরকম দোষ দিক’।

পরের দিন পুলিশ অফিসার আসা মাত্রই রেড্ডি স্যার তলব করলেন মৌকে। মিস্টারমূর্তি বারবার চাইছেন এই মুভার্স-প্যাকার্স আর সিকিউরিটি টিমের আঁতাতের পথ ধরেই তদন্ত হোক। অথচ করিডোরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে রবি যখন ফ্ল্যাট থেকে বেরোলো তার হাত ছিল খালি। তাহলে ব্যাগ কোথায় গেল? সবাই মিলে একসাথে ফুটেজ দেখা হচ্ছে। মিস্টার রেড্ডি টাউনশিপের তিনজনকে বলেছেন পুলিশকে সাহায্য করতে। মৌ তাদের একজন। রবির পরে ওই ঘর থেকে বেরোলো, ওই টাওয়ারের ওয়াচম্যানের বৌ, গঙ্গা। তারও অবশ্য হাত খালি। মৌ জিজ্ঞাসা করল

-গঙ্গা ওখানে কী করছিল?

মিস্টার মূর্তি বললেন, ‘গঙ্গাতো আমাদের বাড়ি কাজ করে, ও সব জিনিষপত্র গোছাতে সাহায্য করছিল’।

-ওকে এব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করাহয়েছিল?

-দেখছেন তো ওরও হাতে কিছু নেই

মৌ পুলিশ অফিসারকে বলল, ‘আপনাদের সন্দেহের তালিকায় নিশ্চয় সবাই আছে, যারা ওই ঘরে ছিল, যদিও বা যারা বেরিয়েছে তাদের হাতে কিছু ছিল না, কিন্তু তারা অন্য কোন উপায়ে পাচার করতে পারে তো’।

পুলিশ অফিসার বললেন, ‘ওই গঙ্গাকে আমরা জিজ্ঞাসা করেছি কালকেই, ও তো কিছু জানেনা বলছে’। মৌ এবার ভাবতে লাগলো।‘আচ্ছা অফিসার সেইসময় যত অটো বা গাড়ি এখানে ছিল, মানে বাইরের গাড়ি, তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন?’

‘হ্যাঁ যেকটা অ্যাপ ক্যাব ছিল, কাল রাতেই খোঁজ নেওয়া হয়েছে তাদের ব্যাপারে, সবাই যাত্রীদের টাওয়ারের সামনে এসেছে, তাদের নিয়ে বেরিয়েছে, বেরোনোর পথে তল্লাশিও হয়েছে’।মাইগেট থেকে যেকটা অতিথিদের অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে, তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর চলছে।

‘কিন্তু সব অনুরোধ মাইগেট অ্যাপ থেকে পাঠানো হয়েছিল’? মৌ জিজ্ঞাসা করল

‘মানে? সেইটাই তো নিয়ম’ রেড্ডি স্যার বললেন I

মৌ বলল, ‘একটা কাজ করুন, বিল্ডিংয়ের উল্টোদিকে যে ক্যামেরাটা বসানো আছে, ওটা দেখুন। বিল্ডিংয়ের পাশের গলি দিয়ে ওইসময় কোন গাড়ি বা কেউ হেঁটে পিছন দিকটায় গেছে কিনা দেখুন’।

পুলিশ অফিসারটি আবাসিকদের এই দলটির কথা খুবই গুরুত্ব দিয়ে শুনছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা হল। আরে, ঘটনা ঘটার দশমিনিট আগে একটি অটো ওই পিছনের রাস্তায় ঢুকলো। ‘জুম করুন তো নাম্বারটা, আরেএটা তো আমি চিনি, কদিন আগেই নাম্বারটা নোট করেছি, লোকটাকে আমার সুবিধার লাগেনি’।মৌ চেঁচিয়ে উঠল।

সঙ্গে সঙ্গে ডাকা হল রামাস্বামীকে। মৌ জিজ্ঞাসা করল ‘আচ্ছা রামাস্বামী, ওইসময় ধরমভীর অটো নিয়ে যে ঢুকেছিল, কোথায় গেছিল? মাইগেটে অ্যাপ্রুভাল আছে’?

রামাস্বামীর মুখটা শুকনো হয়ে গেল। ‘আজ্ঞে ধরমভীর তো আমাদের খুবই পরিচিত, আর ওর বোন-ভগ্নিপতি এই টাওয়ারে ওয়াচম্যান হয়ে আসার পর, ও মাঝে মাঝেই আসে, আমরাও ওকে যেতে দিই’।

অফিসার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ কে ওর বোন-ভগ্নিপতি?’

-আজ্ঞে গঙ্গা আর ওর বর,

ঘটনা আস্তে আস্তে পরিস্কার হল মনে হচ্ছে । দেখা গেল, অটোটা বিল্ডিংয়ের পেছনে একেবারে দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে সিসিটিভিতে ভাল করে দেখা যায়না। ঘটনা ঘটার কিছু পরে অটোটা ওখান থেকে রওনা দেয়। এবার রামাস্বামী বলল ‘কিন্তু ধরমভীর যতক্ষণে বেরিয়েছিল, তখন আমাদের কাছে খবর এসে গেছে, আমরা তো ওর গাড়িতে কিছু পাইনি’।

মৌ বলল, ‘তাহলে পাক্কা এটা গঙ্গার ঘরে আছে’। সিকিউরিটি টিমের ওপর সন্দেহ আসাতে, আপনারা ওয়াচম্যানের ঘর তল্লাশি করেননি, কিন্তু এখন যদি করেন, আমার মন বলছে ধরা পড়বে’।

মিস্টার মূর্তি বললেন ‘আপনি এত শিওর হচ্ছেন কী করে?’

মৌ বলল, ‘রবি নামের কর্মীটি এতবড় রিস্ক নেবে, এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। কিন্তু ওই সময়ে ধরমভীরের অটো নিয়ে পেছনে যাওয়া এবং কিছুক্ষণ পর গঙ্গার খালি হাতে বেরিয়ে আসাটাই ঘটনাটা ঘুরিয়ে দিল। গঙ্গা তক্কে তক্কে ছিল, যে গয়নার ব্যাগ বাইরে আছে। সন্ধ্যের দিকে মিসেস মূর্তি অন্য ফ্ল্যাটে যেতে পারেন বুঝে সে ধরমভীরকে বলে রেখেছিল, সেইমতো অটো নিয়ে পেছনের দিকে আসতে বলেছিল। তারপর সুযোগ বুঝে সে ব্যাগটা ব্যালকনি থেকে সকলের নজর এড়িয়ে নিচে ধরমভীরের হাতে ফেলে দেয়। ধরমভীর জানতো, সিকিউরিটি তাকেএমনিই ঢুকতে দেবে। কিন্তু সে বোঝেনি মিসেস মূর্তি তক্ষণি বাড়ি এসে আবিষ্কার করবেন গয়না নেই, আর কিছুক্ষণের মধ্যে মেইনগেট অব্দি খবর পৌঁছে যাবে’। সে গয়নার ব্যাগ ঠিকঠাক করে যতক্ষণে বেরোনোর প্ল্যান করল, ততক্ষণে মেইনগেটে চেকিং শুরু হয়ে গেছে। তাই সে গঙ্গার জিম্মায় রেখেই বেরিয়েছে। আর যেহেতু চেকিং এখনও চলছে, গয়না এখনও গঙ্গার কাছে আছে সম্ভবত’।

ব্যস ধরমভীরকে কিছুক্ষণের চেষ্টায় ধরে ফেলল পুলিশ, নিয়ে এল গঙ্গার ঘরে, এরপর ধমধামক, অস্বীকার, ভয় দেখানো আর অবশেষে গয়না উদ্ধার। রেড্ডিস্যার গ্রুপে বড়বড় করে লিখলেন, ‘এ সবই সম্ভব হয়েছে মৌয়ের অসাধারণ পারদর্শিতায়’। পুলিশ অফিসার, রামাস্বামী, এমনইকি আবাসনের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানালো মৌকে।

বাড়িতে সকালবেলায় ব্রেকফাস্ট হাতে প্রদীপ্ত আরঐশী বসে আছে মৌয়ের দিকে তাকিয়ে। এমন জলজ্যান্ত মিস মার্পেলের সাক্ষাৎ পাওয়া কি মুখের কথা! ঐশী অবশ্য বলেছে এ কৃতিত্বের ভাগ কিছুটা তারও। মৌ বলল, ‘যা যা কী নিবি নে, শুধু আমাকে কেউ ঘাঁটাবে নাবুঝলে?’ ব্যাঙ্গালোর পুলিশ কিন্তু আমায় চিনে গেছে, হয়তো কদিন বাদে সাহায্য চাইবে’।

প্রদীপ্ত বলল, ‘বেশ বেশ সেইদিনের অপেক্ষায়ই তো আছি, আমার সেলিব্রিটি বৌ বলে কথা’।

মৌ হাসতে হাসতে ফোনটা হাতে তুলল, ‘একটু পটাই পুলিশকে খবর দেওয়া যাক, ভুটাই গোয়েন্দা কি অসাধ্যসাধন করেছে’।

Go Back

Comment

Protected by Mathcha