ঐন্দ্রিলা ঘোষাল

ক্যাম্পাসের ভেজা ঘাসে,
সায়েন্স মাঠের হাওয়ায়,
সেন্ট্রাল লাইব্রেরির নীরব পাতা উল্টোনো শব্দে
ঝরে পড়ে জলকণা-
অদেখা, অথচ দীপ্ত।
মিলন দার চায়ের ধোঁয়ায়,
মণি দার ভেজা বেঞ্চে,
ত্রিগুণা সেনের মঞ্চে উচ্চারিত অর্ধেক স্বপ্নগুলো
ধীরে ধীরে
বাষ্প হয়ে ওঠে-
উড়ে যায় অদৃশ্য আকাশে।
কে জানত, সেই জলকানা গুলোই
একদিন মেঘ হবে!
ভেসে যাবে শহর থেকে শহরে,
সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে-
নিজ নিজ ছায়াপথ ধরে ।
তবু তাদের গায়ে লেগে থাকে
লালমাটির গন্ধ,
বইয়ের পাতায় চাপা থাকে
এক টুকরো যৌবন,
আর একদল অবিনশ্বর নাম-
যাদের ডাকলেই আজও ফিরে আসে প্রতিধ্বনি।
এই মেঘেরা,
কখনো এসে জমে নিজামের আকাশে -
অচেনা শহরের ওপরে
চেনা আলো ছড়ায়।
কেউ বিজ্ঞানের ভাষায়,
কেউ শিল্পের রঙে,
কেউ নিঃশব্দ সেবায়-
বার্তা ছড়ায় মানুষের জন্য।
সেই চিঠিগুলোই বৃষ্টি হয়,
নেমে আসে ধীরে-
কোনো বিদ্যালয়ের উঠোনে,
কোনো অসহায় মুখের পাশে,
কোনো অজানা স্বপ্নের দরজায়।
আমরা প্রত্যেকে-
এক একটি মেঘ পিয়ন,
বহন করে চলেছি
অর্জনের অক্ষর,
দায়বদ্ধতার খাম,
আর স্মৃতির অমোঘ সীলমোহর।
ঝরে পড়ি, তবু শেষ হই না-
আবার উঠি, আবার ভাসি,
কারণ আমাদের যাত্রা
ফিরে যাওয়ার নয়-
ছড়িয়ে পড়ার।
যেখানে প্রয়োজন,
সেখানে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কাজ-
আর কাজ পাশে দাঁড়ানোর
এই আকাশ জুড়ে
চিঠি বয়ে নিয়ে চলা
অদৃশ্য, অথচ অনিবার্য
মেঘ পিয়ন।
