সব্যসাচী রায়চৌধুরী

হায়দ্রাবাদে দোমালগুডার রামকৃষ্ণ মঠে শহরের সব প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। এখানে মন্দিরটি ছাড়াও বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ ল্যাঙ্গুয়েজেস আর বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান এক্সেলেন্স শহর থেকে বহু ছাত্রছাত্রীকে আকর্ষণ করে; সুবিধাবঞ্চিতদের অনেকেই ছাড়মূল্যে চিকিৎসার জন্য বিবেকানন্দ হেল্থ সেন্টারে আসেন, আর এখানকার বিশাল গ্রন্থাগারটিও খুব জনপ্রিয়। কিন্তু খুব কম হায়দ্রাবাদবাসীই শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত কীসারাগুট্টার রামকৃষ্ণ মিশন ক্যাম্পাস সম্পর্কে জানেন।
কীসারাগুট্টার রামকৃষ্ণ মিশনে এটা ছিল আমাদের দ্বিতীয়বার আসা। প্রায় এক বছর আগে, আমরা এক সপ্তাহান্তে সেখানে গিয়েছিলাম আর মন্দিরের নির্মল নীরবতায় সত্যিই এক শান্তিপূর্ণ সময় কাটিয়েছিলাম। চারিদিকের সবুজে ঘেরা একটি প্রাঙ্গণে স্বামী জ্ঞানদানন্দজীর (যিনি আগে হায়দ্রাবাদ মঠের অধ্যক্ষ ছিলেন) সাথে আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলাম, আর চারপাশের মনোরম প্রকৃতি উপভোগ করতে করতে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। যাওয়ার পথে বেগমপেট থেকে সৈনিকপুরী, এ. এস. রাও নগর হয়ে শহরের মধ্যে দিয়ে ইসিআইএল পার হয়ে ভুবনগিরির দিকে এগোতে থাকলে রাস্তার দুই পাশের সবুজের কারণে যাত্রাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। আমরা আউটার রিং রোড পার হয়ে সহজেই কীসারা শহরে পৌঁছে গেলাম। কীসারাগুট্টা পার হওয়ার প্রায় সাত কিলোমিটার পর ডানদিকে মঠ প্রাঙ্গণটি দেখতে পাওয়া যায়।

আশ্রমে প্রবেশ করার সাথে সাথেই এর শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। চারিদিকের প্রচুর গাছপালা আর আশ্রমের জলের উৎস একটি লেক এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভক্তদের জন্য আশ্রমে প্রায় ৫০টি ঘর রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আসার জন্য আগে থেকে বুকিং করে রাখা ভালো, তবে আপনি এখানে এসেও বুকিং করতে পারেন। যেকোনো ভক্ত আশ্রমে থাকতে পারেন, কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে এটি কোনো আমোদ-প্রমোদের জায়গা নয়। এখানে সর্বদা প্রশান্তি বজায় রাখতে হয়।

আমরা আমাদের সাধারণ কিন্তু পরিষ্কার রুমে চেক ইন করে প্রাঙ্গনের দিকে রওনা হলাম। শান্ত লেকটির পাশে বসার জায়গা আছে, যেখানে আমরা অনেকক্ষণ বসেছিলাম। ছোট ছোট বানরের দল আশেপাশে খেলা করে, কিন্তু তারা বিরক্ত করে না। গাছপালার মধ্যে দিয়ে
একটি দীর্ঘ পথ আপনাকে এই মনোরম চারপাশ ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেয়।
মন্দিরটি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মন্দিরের প্রার্থনার হলটি মনোরম; শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি রয়েছে, পাশের দিকে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের প্রধান শিষ্যদের ছবিও আছে। মন্দির ভোর ৫টা থেকে রাত ৮:৩০টা পর্যন্ত খোলা থাকে, আর অন্যান্য অনেক রামকৃষ্ণ মঠ কেন্দ্রের মতো এটি দুপুরে বন্ধ হয় না। আপনি চাইলে সারাদিন সেখানে বসে নীরবে প্রার্থনা করতে পারেন। সকালে ৫:৩০টায় মঙ্গল আরতি, সকাল ৭:৩০টায় পূজা এবং সন্ধ্যায় ৬:৩০টা থেকে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

আশ্রমের ক্যান্টিনে প্রাতরাশ, দুপুরের খাবার আর রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। এখানকার খাবার স্থানীয় তেলুগু রান্না; তা নিরামিষ হলেও অত্যন্ত সুস্বাদু। সকালের উপমাটি খুব ভালো ছিল, এবং সেই সাথে সাম্বার, ডাল, চাটনি ও সবজির তরকারিও। রুমের ভাড়ার মধ্যেই খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত। তবে মনে রাখবেন যে, খাবারের আয়োজন খুব জাঁকজমকপূর্ণ নয়, এবং খাওয়ার পর আপনাকে নিজের বাসনপত্র নিজেই ধুয়ে দিতে হবে।

আমাদের এখানে থাকার অন্যতম আকর্ষণ ছিল এখানকার আবাসিক মহারাজের সঙ্গে সৎসঙ্গ। এই সৎসঙ্গ প্রতিদিন সকাল ৯:৩০ মিনিটে এবং সপ্তাহান্তে এছাড়া বিকেল ৫:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। আধ্যাত্মিক যাত্রাপথের যেকোনো সংশয় নিয়ে আপনি যদি আলোচনা করতে চান, তাহলে তা নিয়ে আপনি মহারাজকে প্রশ্ন করতে পারেন। এখানে খুব সীমিত সংখ্যক ভক্ত থাকায় খোলামেলা ও উদ্দীপনামূলক আলোচনাও সহজে করা যায়।
দুই দিন থাকার পর আশ্রমকে বিদায় জানানোর সময় আমরা মনস্থির করে ফেলেছিলাম যে, পরেরবার আরও বেশি দিনের জন্য ফিরে আসব।
অবস্থান:
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, কীসারাগুট্টা
রামালিঙ্গম্পালি, তেলেঙ্গানা ৫০৮১২৬
ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলা
তেলেঙ্গানা
টেলিফোন: ৭৯০১৬ ৯৬৮০১
দিকনির্দেশ:
ORR থেকে Exit 8 নিন। অবস্থানটি ৭ কিমি দূরে। সেকেন্দ্রাবাদ থেকে এল সৈনিকপুরী—এ. এস. রাও নগর—ইসিআইএল—নাগারম হয়ে এখানে পৌঁছতে পারেন।