চন্দন কুমার চৌধুরী
ডাক্তাররা বলেন পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়স হয়ে গেলেই রোজ মর্নিং ওয়াক করাটা স্বাস্থ্যের কারণে অত্যন্ত জরুরী। অনিমেষও বাধ্য ছাত্রের মতো সকালে হাঁটা শুরু করেছে। দু দিন রাস্তায় হেঁটে আজ কি মনে হলো হঠাৎ পার্কে ঢুকে পড়ল। দলে দলে নানা বয়সের লোক হাঁটছে, দৌড়চ্ছে, জগিং করছে। মাঠের মাঝে হাস্যানুরাগীরা হো হো করে হাসছে। আজকাল দেখা যাচ্ছে সবাই খুব স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছে।
তিন চক্কর দিতে দিতেই অনিমেষ ক্লান্ত হয়ে সিমেন্টের বেঞ্চে বসে হাপরের মতো হাঁপাতে লাগলো। বসে বসেই যারা এখনও হাঁটছে তাদের তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে থাকলো। কারুর মাথায় টুপি, কেউ সোয়েটার পরে, কেউ স্রেফ হাল্কা পাঞ্জাবি। মহিলারা কেউ শাড়ি, কেউ সালোয়ার কামিজ ইত্যাদিতে। এক ভদ্রমহিলা, দিব্যি টান টান চেহারা, পরনে জীনস আর টি-শার্ট; সাথে এক লতপতে কুকুর ছানা। তারও গায়ে জামা, মাথার লোমগুলো রিবন দিয়ে ঝুঁটি করে বাঁধা। সে বেচারা বোধহয় নতুন হাঁটতে শিখেছে; ভদ্রমহিলার হনহনিয়ে হাঁটার সাথে দৌড়ে তাল রাখতে পারছে না।
ভদ্রমহিলাকে দারুণ দেখতে, বেশ চকচকে চেহারা, একটুও ভাঁজ না পড়া মসৃন ত্বক। টেনে পনিটেল করা চুল। সক্কাল সক্কাল এমন সব সুন্দর মুখ দেখলে মনটা ফুরফুরে হয়ে যায়। ভেবেই অনিমেষ মনে মনে নিজেই নিজের গালে চড় মারল। ছিঃ ছিঃ ভোরবেলা এ সব কি ভাবনা! কোথায় ইশ্বর চিন্তা করবে, তা নয় যতো তমোভাব! অনিমেষ আজকাল মাঝেমাঝেই রামকৃষ্ণ মিশনে সন্ধেবেলা ভক্তিমূলক আলোচনা শুনতে যায়। কখনো কখনো রামকৃষ্ণ কথামৃতও উল্টোয়। কিন্তু ঐ যে সংসারী মোহবদ্ধ জীব, ঘুরে ফিরে মনের ভেতর মহিলাকে নিয়ে কুচিন্তাটাই বুরবুরি কাটছে। কি রকম বয়স হবে ভদ্রমহিলার? মেয়েদের বয়স আন্দাজ করা বেশ শক্ত। অনিমেষের মেয়ে ঝিমলি সবে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে, তাকেও এক এক সময় দেখলে কেমন ভদ্রমহিলা ভদ্রমহিলা মনে হয়। তবে কি ঝিমলির বয়সী হবে? মনে মনে জিব কাটলো, মেয়ের বয়সী মহিলার দিকে নজর! ছিঃ ছিঃ তারপরই মনে হলো, ‘না, না, অতো ছোট হবে না।‘ অনিমেষেরই ছোট শ্যালিকা, চল্লিশ তো বটেই, দু চারটে রূপোলি চুল রঙ-টঙ করে লুকিয়ে রাখে। কখনো ডাই করতে ভুলে গেলে দেখা যায়। এ সব ভাবনা চিন্তার মধ্যেই ভদ্রমহিলাটি অনিমেষকে হুড়মুড়িয়ে পেরিয়ে চলে গেলেন। এবার অনিমেষ পাপ-পুণ্যবোধকে শিকেয় তুলে রেখে ভাবলো, ‘সুন্দরী মহিলা, দেখতে ভালো লাগছে , দেখছি। ব্যাস, কার কি তাতে! মাঠটা তো মঠ নয় যে ইশ্বরচিন্তা করতে হবে।‘
ভদ্রমহিলাও বোধহয় অনিমেষের এই মুগ্ধতাটুকু লক্ষ্য করেছিলেন। তৃতীয়বার যখন দূর থেকে মহিলাকে দেখা গেল, অনিমেষের মনে হলো ভদ্রমহিলা যেন স্মিত হাসি নিয়ে ওর দিকেই এগিয়ে আসছেন। অনিমেষও হাসি হাসি মুখে অনিমেষ নয়নে চেয়ে রইল। কাছাকাছি এসে ভদ্রমহিলা ঝপ করে দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, “আঙ্কেল, আপনি তো বসে আছেন, একে একটু রাখুন না।“
‘আঙ্কেল?’ শুনেই অনিমেষের বুকে একটা ধাক্কা লাগল। ভালো লাগার প্রদীপটা যেন দুপ করে নিভে গেল। মেয়েরাই বড় নিষ্ঠুর হয়, সুন্দরী হলে তো আরো বেশি। তবু কিছু বলা তো আর যায় না। কারুর যদি আঙ্কেল বলতে মন চায় অনিমেষ তো তা বলে ঝগড়া করতে পারে না। তার থেকেও বড় কথা অনিমেষের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ভদ্রমহিলা তো দাঁড়ালেনই না। হাতে কুকুরের বেল্টটা ধরিয়েই হনহনিয়ে হাঁটা লাগালেন। কুকুরটাও এতোক্ষণেএকটু জিরোতে পেরে জিভ বের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। অনিমেষ কোনোকালেই কুকুর প্রেমী নয়। কিশোর বয়সের বন্ধু অরুনদের কুকুরটা ওর বুকে পা তুলে দাঁড়িয়ে গাল চেটে দিয়েছিল। তারপর জলাতঙ্কের আতঙ্কে বহুদিন ভুগেছে; বাথরুমে গিয়ে জল ভরা বালতির দিকে তাকিয়ে থাকতো ভয় লাগছে কিনা বোঝার জন্য। সেই থেকে অনিমেষ কুকুরওয়ালা লোকেদের সাথে বন্ধুত্ব করে না। এটা নেহাতই শিশু, তাই রক্ষে। এরই মধ্যে অনিমেষের পায়ের বুড়ো আঙুলটা চাটছে, ছোট ছোট দাঁতগুলোতে অনিমেষের সুড়সুড়ি লাগছে।
চতুর্থবারও ভদ্রমহিলা হাসি হাসি মুখে অনিমেষকে পেরিয়ে গেলেন, পঞ্চমবারও গেলেন। অনিমেষও স্মিত হাসি নিয়ে বিস্তারিতভাবে ভদ্রমহিলার পেরিয়ে যাওয়াটা দেখল। এখন আর বিবেকের দংশনটা অনুভব করছে না বরং কুকুরের বেল্টটা হাতে থাকায় একটা অধিকারবোধের অনুভূতি হচ্ছে। বাচ্চা কুকুরটা এদিক ওদিক শুঁকছে। হঠাতই অনিমেষের ঘোর কাটল একটা ঘরঘর শব্দে, বাচ্চাটাও কুঁইকুঁই করে অনিমেষের পা ধরে ওঠার চেষ্টা করছে। সামনের ঝোপটার ভেতর থেকে একটা পাড়ার কুকুর বাচ্চাটার দিকে আক্রমনাত্মক ভঙ্গীতে তাকিয়ে রয়েছে। অনিমেষ কোনোদিনই নেড়িকুকুরদের মোকাবিলা করেনি, ভয়ও করছে, কামড়ালেই নাকি পেটে চোদ্দটা ইংজেকশন নিতে হয়। তবুও মনুষ্যোচিত বীরত্ব দেখিয়ে ‘হ্যাট’ ‘হ্যাট’ করল। কুকুরেরাও লোক চেনে। উল্টে দু পা এগিয়ে এলো। অনিমেষ চট করে একটা ঢিল তুলে ছুঁড়ে মারল। কুকুরটা একটু পাশে সরে গিয়ে ডাকল ‘ভৌ ভৌ, বোধহয় ওর বন্ধুদের ডাকলো। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দূর থেকে তীরবেগে আরো দুটো কুকুর এদিকে ধেয়ে এলো। অনিমেষের আর সাহসে কুলোলো না। চট করে কুকুরছানাটাকে বুকে তুলে বেঞ্চের ওপর উঠে দাঁড়ালো। কুকুর তিনটে বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ডাকল ভৌ ভৌ ভো। অনিমেষ স্পষ্ট শুনল নামাও নামাও নামো। যতোই চেঁচাও অনিমেষের নামতে বয়েই গেছে। যদিও পার্কের বেঞ্চটা খুব উঁচু নয়, কুকুরগুলো ইচ্ছা করলেই লাফিয়ে উঠতে পারে, তবুও নিচ থেকেই চেঁচামেচি করছে। কুকুরদেরও তো একটা মাত্রাবোধ থাকে। এই বকাবকি কতক্ষণ চলল খেয়াল নেই। এই শীতের সকালেও অনিমেষ ঘেমে নেয়ে গেছে। বেশ ক’জন প্রাতঃভ্রমনকারী দিব্যি পেরিয়ে চলে গেল, অনিমেষের করুন অবস্থাকে কেউ পাত্তাই দিলো না। শেষ অবধি একটা অল্পবয়সী ছেলেই ওকে উদ্ধার করল। একটা থান ইঁট তুলে ছুঁড়তেই তিন পরাক্রমশালী সারমেয় কেঁউ কেঁউ করে উর্দ্ধশ্বাসে পালালো। ছেলেটাকে থ্যাঙ্ক ইউ দিতে দিতে বেঞ্চ থেকে নামলো অনিমেষ।
নামার পর খেয়াল হলো টি শার্টের তলা থেকে ট্র্যাকস্যুট সবই তো জবজবে ভেজা। একটু সময় লাগলেও ব্যাপারটা বুঝতে পারা গেলো কুকুর শাবকটি সেই সঙ্কটজনক সময়ে শিশুসুলভ কাজটি করে ফেলেছে। ছ্যা ছ্যা ছ্যা, কি বিচ্ছিরি ব্যাপার! এখন সব জামা কাপড় ডেটল দিয়ে কাচতে হবে। মেজাজ গরম হয়ে গেল অনিমেষের। একেই বলে পেনি ওয়াইজ পাউন্ড ফুলিশ। কুকুরছানাটার গায়ে জামা পরিয়েছে, মাথায় রিবন বেঁধেছে আর একটা ডায়াপার পরায়নি! সবাই জানে কুকুররা একটু ডায়াবেটিক হয়। তারপরই খেয়াল হলো যার ওপর রাগ করছে, যার কুকুর, এতো কান্ড হয়ে গেল, সে কোথায়? এতো লোক পেরিয়ে যাচ্ছে তাকে তো দেখা যাচ্ছে না। নাকি হাঁপিয়ে গিয়ে বসে পড়েছে কোথাও। ঠিক আছে, একটু অপেক্ষা করা যাক।

অনিমেষ অপেক্ষা করেই চলেছে। রোদ উঠে গেছে। মর্নিংওয়াকারের সংখ্যা কমে আসছে। অনিমেষের খিদেও পাচ্ছে।
অন্যদিন এ সময়ে চা বিস্কিট খায়। একটু বাথরুমে যাওয়াও খুব দরকার। একটু দূরেই পার্কের ঝকঝকে ইউরিন্যাল। কিন্তু কুকুরছানা সহ ঢুকতে অনিমেষের ভারী লজ্জা করছে। কুকুরছানাটি অনিমেষকে সে অবস্থায় দেখে ফেলবে ভাবতেই অনিমেষের কান লাল হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে। অথচ বাইরেই বা কার ভরসায় রেখে যাবে! বড় কুকুরগুলো হয়তো কাছেপিঠেই আছে। পেলেই বেচারাকে ছিঁড়ে ফেলবে। অথচ ভদ্রমহিলার দেখা নেই। রাগ হতে শুরু করেছে। আর রাগ হলে তো ভদ্রতা টদ্রতা থাকে না। মহাবেআক্কেলে মেয়েছেলে তো! সক্কালবেলা কুকুরছানাটা ধরিয়ে দিয়ে বেপাত্তা! নেহাত একটু সুন্দর মুখ দেখে ভদ্রতা করেছে বলে হেনস্থা করবে! কি যে করা যায় ভেবে পাচ্ছে না অনিমেষ। এদিকে রোদ বাড়ছে, বেলা সাড়ে সাতটা। বাড়িতেও নিশ্চয়ই সবাই চিন্তা করছে। অফিস যেতেও দেরী হয়ে যাবে। কুকুরটাকে ছেড়েও যাওয়া যাচ্ছে না, নিয়ে তো যাওয়া যাবেই না। রঞ্জনার মুখটা মনে পড়লেই ভয় ভয় করছে। রঞ্জনা ঘোর কুকুর বিদ্বেষী। শ্বশুরমশাই নাকি বলতেন, ‘শিঙ্গেল, দাঁতাল আর মাতাল সবই ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক।‘
কিন্তু সত্যিই তো ভদ্রমহিলা গেলেন কোথায়? অনিমেষের মনে কু ডাকলো। কেউ আবার কিডন্যাপ করলো নাতো? দিনকাল ভালো নয়। এই তো কবে যেন কোন শিল্পপতি মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে কিডন্যাপড হয়ে গেল। ভদ্রমহিলা শিল্পপতি না হোন শিল্পপত্নী তো হতেই পারেন। ভাবতেই বুকটা ধড়াস করে উঠলো। তাহলে তো এক চিত্তির! ভদ্রমহিলা কিডন্যাপড হলেন…তার কুকুর অনিমেষের কাছে। থানা পুলিশ …পুলিশ যদি জিজ্ঞেস করে কুকুরছানাটা ওর কাছে কি করে এলো, কি বলবে? এতো মানিপার্স কি মোবাইল নয় যে বলবে রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে থানায় জমা দিতে যাচ্ছিলাম। মানুষের ছানা হলেও নয় কথা ছিল। অনিমেষের গল্প কে আর বিশ্বাস করবে! নাহঃ, এ কুকুর রাখা খুবই বিপজ্জনক! কেন যে মরতে আজ পার্কে ঢুকতে গেল! হাত থেকে বেল্টটা ফেলে দিয়ে অনিমেষ হনহনিয়ে হাঁটা লাগালো। তারপরই চোখে পড়লো কুকুরছানাটাও অনিমেষের সাথে তাল রেখে ক্ষুদে ক্ষুদে পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলেছে। অনিমেষ দাঁড়িয়ে পড়ল, কুকুরটাও দাঁড়িয়ে পড়ল। অনিমেষ তাড়া দিলো ‘যাঃ’ ‘যাঃ’। কুকুরছানাটা মহাআনন্দে ওর ছোট্ট ল্যাজটা নাড়াতে লাগলো। অনিমেষ আবার হাঁটা লাগালো, কুকুরছানাটাও পাশে পাশে দৌড়তে থাকলো। ভারী মুস্কিল! কিছুতেই পিছু ছাড়ানো যাচ্ছে না। অনিমেষ যতোবার বলে, ‘যাঃ ভাগ বলছি’, ততোই যেন ওর খুশি উথলে উঠছে। ততোই লেজ নাড়ে, পায়ে পায়ে জড়ায়। তা বলে তো একে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। লঙ্কাকান্ড হয়ে যাবে। একেই জামা-কাপড় ডেটলে কাচতে বললেই, সব খুলে বলতে হবে। রঞ্জনা ক্যাঁক করে চেপে ধরবে, ‘পৃথিবীতে এতো লোক থাকতে তোমাকেই বা সে মেয়ে কুকুর ধরিয়ে দেয় কেন?’
সকালবেলার এই নির্দোষ দর্শনের ব্যাপারটা রঞ্জনা কিছুতেই বুঝবে না। মেয়েরা এমনিতেই সন্দেহপ্রবণ, স্বামীরা চল্লিশ পেরোলে তো একেবারেই বিশ্বাস করে না। এ বয়সটা নাকি ভালো নয়। সেই রাগ রাগ মুখটা মনে পড়লেই ভয় করছে। রাগলে আবার রঞ্জনার জ্ঞানগম্যি থাকে না, মেয়ের সামনেই কি বলে বসবে আর বাবার ভাবমূর্তি ধ্বসে চুরমার হয়ে যাবে। পার্কের গেট অবধি যেতে গিয়ে অন্ততঃ বার ছয়েক অনিমেষ প্রতিবাদ করেছে। একবার তো ক্যাঁৎ করে একটা দেবার জন্য পা অবধি তুলেছিল, ঐটুকু বাচ্চা বলে নিজেকে সামলেছে। এমন একটা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থায় দেখল ভদ্রমহিলা হনহনিয়ে পার্কে ঢুকছেন। অকপট ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে বললেন, “সরি আঙ্কেল। লোলির কথা বাড়ি ঢুকে মনে পড়ল। আসলে কালকেই লোলিকে এনেছি তো। ভেরী ভেরী সরি।“
সুন্দরী মেয়েদের ওপর রাগ করতে নেই, অনিমেষ বোকা বোকা হেসে বলল, “না, না, ঠিক আছে, ঠিক আছে। নো প্রবলেম।“
মনে মনে বলল, ‘বাঁচালে, মা লক্ষ্মী, নয়তো আমার আজ কি দুর্দশাই যে হতো।… কাল থেকে আর পার্কে পা রাখাই নেই। খুব শিক্ষা হয়েছে আজ।‘
খানিকটা বাড়ির দিকে এগোতেই অনিমেষের মনে হলো, ‘না আসারই বা কি আছে! রোজ রোজ তো আর ভদ্রমহিলা কুকুরের কথা ভুলবেন না। এলে তো তবু দেখা হবার একটা চান্স থাকবে। আর এতো শুধু নির্দোষ দেখা-সাক্ষাৎ মাত্র।‘