শান্তনু দে
রজনীগন্ধা ফুল ফুটেছিল বাগানের এক কোণে
ভ্রমর শুধালো তাকে উড়ে এসে মৃদু মৃদু গুঞ্জনে ।
তুমি সুন্দর, অপূর্ব রূপ, ক্ষীণকায়া মনোরমা
তবু জেনো ফুলের জগতে কমলই সর্ব্বত্তমা ।
আমি কি পারবো হতে সে কমল? শুধালো রজনীগন্ধা
তাকি হয়? বলে উড়ে গেল অলি, ঘনিয়ে আসলো সন্ধ্যা ।
রজনীগন্ধা বসে ভাবে এক কমল ফুলের কথা
ঈর্ষা কাতর হল তার প্রাণ, জাগলো মর্ম ব্যাথা ।
ভ্রমরের কথা মনে পড়ে যায়, কমল সর্ব্বত্তম
বলে মনে মনে, হে বিধাতা কেন দিলে এ বৃথা জনম ।
যদি না হলাম রূপে শ্রেষ্ঠ, না পেলাম সে কদর
তবে কেন থাকি অনাদরে, কি লাভ এ জীবনে মোর ।
দাও না আমাকে কমল বানিয়ে, দাও রূপ অনুপম
আমি-ও হব এ জগতে শ্রেষ্ঠ, হব সর্ব্বত্তম ।
বৃথা প্রার্থনা বিধি না শুনলো, চাঁদ হাসে মিটিমিটি
আকুল বাতাস বয়ে যায় যেন সহানুভূতির গীতি ।
নিদারুণ সে যন্ত্রণা যেন ছিঁড়ে যায় তার প্রাণ
গাছের পাতার মর্মর ধ্বনি মূর্ত্ত সে অভিমান ।
অমল প্রভাতে স্বর্ণ কিরণে ভ্রমর আসে তার কাছে
দেখে সেই কোণে রাত্রির শেষে রজনীগন্ধা শুকিয়াছে ।
পারেনি মানতে হৃদয় তার যে সে কারো কাছে নত
চেষ্টা করেছে হতে যে পারেনি, ঝরেছে বেদনাহত ।