অরুন্ধতী সেনগুপ্ত

আজ যার কথা বলতে বসেছি, তাকে আমি আমার কিশোরী বয়স থেকে চিনি। ওনার বাড়ির সামনে দিয়ে গেলেই লাল টিপ সিঁথিতে ভরা সিন্দুর, থাক্ থাক্ চুলের একটি সুন্দরী মহিলা আমায় জিজ্ঞেস করতেন – “কিরে ভাল আছিস ? দাদু ঠাকুমা কেমন আছেন ? কই যাস ? শুক্লার বাড়ি ?” শুক্লা আমার এক প্রিয় বান্ধবী তাও তিনি জানতেন। আমিও দাঁড়িয়ে একটু কথা বলে চলে যেতাম।
এরপর অনেকগুলো দিন পার হয়ে গেল। আমি ওনার বাড়ির বড় বউ হয়ে এলাম। উনি আমার শাশুড়ি হলেন। আনেক ভয় অনেক দ্বিধা আর আশংকা নিয়ে যখন ওই বাড়িতে প্রবেশ করি , তখন ওখানে খুব আনন্দময় পরিবেশ ছিল। তবু আমার ভয় কাটানোর জন্য সবাই খুব হই হই করছিল। বলছিল এবার তোমার ছেলে, ছেলের বউকে কোলে নিয়ে বসতে হবে। (বোধকরি কোনো স্ত্রী আচার হবে) উনি সঙ্গে সঙ্গে কোল পেতে দিয়ে বললেন – “আয় বুলা আমার কোলে বোস্ তো”। সত্যি সত্যি আমি ওনার কোলে বসলাম, উনি আমাদের দুজনকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। মুহূর্তের মধ্যে এ বাড়িটা যেন আমার নিজের হয়ে গেল। মনে হল উনি আমার খুব কাছের ও আপনজন। বাড়িটা খুব প্রিয় হয়ে গেল। মা চিরকাল নিজের মেয়ের মত বন্ধুর মত আমাকে ভালবেসেছেন। দীর্ঘ তেত্রিশ বছর আমরা সুখে দুঃখে বন্ধুর মত কাটিয়েছি। হঠাং করে উনি চলে যাওয়ায় বুকের মধ্যে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সেটা পুরণ হবার নয়। বড্ড ফাঁকা লাগে। কাউকে বলে বোঝানো যায় না। আর কেও ডাকবেনা – “বুলা এস তো এখানে বোসো। একটু পান খাও।”