পার্থ প্রতিম মল্লিক
(হিমাদ্রি আমাদের এক বন্ধু ছিল। ছিল - মানে সে এখন অতীত! একদিন হঠাত সে চলে গেল। কাউকে কিছু না বলে, হঠাত - একা একা... অকালে শেষ হয়ে গেল এক প্রতিভাবান কিন্তু খ্যাপাটে টাইপের শিল্পীর জীবন। এমন ঘটনা হয়ত নতুন নয়। কিন্তু যে ব্যাপারটা আজ-ও আমাদের কয়েকজনকে তাড়া করে বেড়ায় তা হল, সে ঠিক কি করে চলে গেল কেউ জানতেও পারল না। বা হয়ত যারা জানার চেষ্টা করতে পারত তারা যথেষ্ট চেষ্টা করলো না। আমার মত কয়েকজন এটা নিয়ে প্রথমে কিছুদিন খুব ভাবল, মন খারাপ করলো, কিছুটা চেষ্টা করলো। কিন্তু তারপর? 'রোজ ঘুম থেকে ওঠা আর দাঁত মাজা, খবর কাগজে দুঃসংবাদ এ ভরা' জীবনে আলু পটল পার্টি প্রমোশন আর জৈবিক চাহিদা হিমাদ্রির অকাল প্রয়ানকে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দিল। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়। আমি চাই মাঝে মাঝে এমন এক রাত্রি আসুক যখন ঘুম ভাঙিয়ে হিমাদ্রি জিগ্গেস করে যাবে, 'কি রে ভালো আছিস?' নিয়ম করে...)
রোজ বয়েনপল্লি পুলিশ স্টেশন টা দুবার ক্রস করি।
প্রথম প্রথম রোজ পুলিশ স্টেশন এর গেট টার দিকে ঠিক চোখ চলে যেত -
আর হানা দিত মর্গে দেখা তোর্ সেই ঠিকরে বেরিয়ে আসা চোখ দুটো।
প্রত্যেক দিন - দু'বার -
সকাল ৯ টা আর সন্ধ্যে ৬-৩০ টা কি ৭ টা!
তোর ঠিকরে আসা চোখ, ঘন কালচে-নীল ঠোঁট জোড়ার মাঝখানে সেই ভয়ানক অন্ধকার
রোজ কি যেন বলতে গিয়েও থেমে যেত!
কি বলতে গিয়েছিলি?
এই একক মরণ তো তোর পরিনতি ছিল না!
জানিস, সব কিছু এক আছে।
আজও আসে ঠিক মধ্যরাত্রে জন্মদিন, আসে উইক এন্ড।
কাবাব খাই, হুইস্কি দিয়ে;
কেক কাটি ছুরি দিয়ে।
সিনেমা দেখি, ড্রাইভ এ যাই, ঘুমই।
চ্যাট করি, প্রেম করি, খিস্তিও মারি - মাঝে মধ্যে।
মোদ্দা কথাটা 'হল -
কোথাও কিচ্ছু পাল্টায়নি রে!
ইন ফ্যাক্ট, বিগত কয়েক মাস ধরে তোর্ ঠিকরে বেরোনো চোখ গুলো-ও হালকা যাচ্ছে...
তুই হয়ত জানিস না
আজকাল বয়েনপল্লিতে ভীষণ জ্যাম হয়!
খুব সাবধানে গাড়ী চালাতে হয়...
জানিস তো হায়দ্রাবাদী ট্র্যাফিক!
আগ্রাসী অটোর চুম্বন এড়াতে এড়াতে কখন যে পুলিশ স্টেশন টা পেরিয়ে যাই....
বুঝতেও পারি না!
হিমাদ্রি, ভালো আছিস?